জাহেলিয়া যুগে আরবের অবস্থা - Condition of Arab at the age of Jahiliyah
আইয়ামে জাহেলিয়া শব্দ দু'টি আরবি শব্দ। আইয়াম শব্দটি ইয়াওমুন এর বহু বচন, এর অর্থ যুগ বা সময়। জাহেলিয়া শব্দের অর্থ অন্ধকার বা অজ্ঞতা। আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে আভিধানিক অর্থ দাড়ায় অন্ধকার বা অজ্ঞতার যুগ। এর পারিভাষিক সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ঐতিহাসিকগণ বলেন :
ক. P. K. Hitti বলেন "The term jahiliyah, usually rendered Time of ignorance' or 'Barbarism', boreality means the period in which Arabia had no dispensation, no inspired prophet, no revealed book.”” অর্থাৎ, আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে এমন একটি সময় কালকে বুঝায়, যখন আরবে কোন বিধি-বিধান ছিল না, কোন অনুপ্রাণিত ধর্মপ্রচারক ছিল না, কোন প্রত্যাদিষ্ট ধর্মগ্রন্থ ছিল না।
খ. Well Hausen বলেন, "The religious of the Arabs as well as their political life was an a throughly primitive level." অর্থাৎ, আরবদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জীবন আদিম অবস্থায় ছিল ।
গ. সৈয়দ আমীর আলী বলেন, "Never in the history of the world was the need so great, the time so ripe for the appearance of a deliverer." অর্থাৎ, দুনিয়ার ইতিহাসে পরিত্রাণকারীর আবির্ভাবের এত বেশি প্রয়োজন এবং এমন উপযুক্ত সময় অন্যত্র অনুভূত হয় নি।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, নীতিবোধ ও মানবতাবোধের অভাবে যে যুগে সমাজব্যবস্থা এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অবস্থা অধঃপতনের শেষ পর্যায়ে নেমে এসেছিল এবং ন্যায় ও সত্য পথের আহ্বানকারীর তীব্র প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল, সে যুগকে আইয়ামে জাহেলিয়া বলে ।
আইয়ামে জাহেলিয়ার সময় The Period of Jahiliyah Age
আইয়ামে জাহেলিয়া কত খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু হয় এ বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিভিন্ন মত পাওয়া যায়। যেমন-১. কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে, হযরত আদম (আ) হতে হযরত মুহাম্মাদ (স) পর্যন্ত সময়কালকে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়।
২. আরব ঐতিহাসিকদের মতে, হযরত ঈসা (আ) এর তিরোধানের পর হতে ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বকাল পর্যন্ত সময়কে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়।
৩. ইউরোপীয় ঐতিহাসিক নিকলসনের মতে, ইসলামের আবির্ভাবের পূর্ববর্তী এক শতাব্দী কালকে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়। ঐতিহাসিক P. K. Hitti ও এমত সমর্থন করেন।
সমালোচনা Criticism
প্রথম অভিমতটি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ যুগে যুগে আল্লাহপাক হেদায়াতের জন্য নবী বা রাসূল প্রেরণ করেছেন। নবী বা রাসূলের আল্লাহর একাত্মবাদ প্রচারণা চলাকালে একটি জনগোষ্ঠী স্বর্গীয় আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছিল, বিধায় হযরত আদম (আ) হতে আইয়ামে জাহেলিয়ার সূচনা কাল ধরে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা মুক্তি নয়।
দ্বিতীয় অভিমত আংশিকভাবে মেনে নেওয়া যায়। কারণ হযরত ঈসা (আ) এর তিরোধানের সাথে সাথে গোটা জাতি এক সাথে অধঃপতিত হতে পারে না। তৃতীয় অভিমতটি মেনে নেওয়া যায়। কারণ হেজাজের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ইত্যাদি অবস্থার বিশৃঙ্খলা প্রায় একশত বা তার কিছু বেশি কাল হতে শুরু হয়েছিল।
আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে রাজনৈতিক অবস্থা Political Condition
১) গোত্র বিভক্তি : প্রাক ইসলামি যুগে আরবে কোন কেন্দ্রীয় সরকার ব্যবস্থা ছিল না। দক্ষিণ আরবের কিছু অংশ ব্যতীত গোটা আৱৰ কতকগুলো গোত্র শাসিত জনপদে বিভক্ত ছিল। বনু বকনা, বনু তালিব, আবস ইত্যাদি গোত্র উল্লেখযোগ্য।
২). গোত্রীয় শাসন :এক একটি পরিবার তাবুতে বসবাস করতো। কয়েকটি তাবু নিয়ে একটি শিবির বা হাই গঠিত হয়। একাধিক হাই মিলে গঠিত হয় একটি গোত্র বা গোষ্ঠী। গোষ্ঠীর প্রধান সদস্যের শাসন সবাই মেনে চলে। এক গোত্রে সঙ্গে অন্য কোন গোত্রের শাসনগত পার্থক্য না থাকলেও ঐক্য ছিল না। নামের প্রথমে তারা বনু বা বানু ... (বংশধর) লাগিয়ে গোত্রীয় ঐক্য বুঝাতো। গোত্র প্রধানের শান্তি বা পুরস্কার সবাই মেনে চলতো।
৩) গোত্রপ্রীতি: গোত্রপ্রীতি হলো বেদুইন আরবদের মূল প্রেরণা। এই প্রেরণার মূল উদ্দীপনা হলো অন্যান্য সদস্যদের প্রতি সীমাহীন ও নিঃশর্ত আনুগত্য। এককথায় তারা উহা গোত্রপ্রীতির সমর্থক P. K. Hitti Al-Mobaral Al-Kamil গ্রন্থের বরাত দিয়ে বলেন, “Its claim upon its members is strong enough to make a husband give up his wife. অর্থাৎ, (সদস্যদের উপর গোষ্ঠীর বা গোত্রের দাবি এতই প্রবল যে, গোত্রের প্রয়োজনে কোন স্বামী তার স্ত্রীকেও ত্যাগ করতে পারে।)
৪. শেখ : সকল গোত্রের নিজ নিজ দলপতি বা শেখ শাসক হিসেবে থাকতেন। গোত্রের শেষ নির্বাচনের জন্য গৌরব, মহানুভবতা, বীরত্ব, নিরপেক্ষতা, প্রবীণতা ও কতকগুলো ব্যক্তিদের প্রয়োজন হতো। গোত্রভুক্ত পরিবারের প্রধানেরা যতদিন শেখকে মেনে নিতেন বা পরামর্শ নিতেন ততদিন শেখ তার পদে বহাল থাকতেন। P. K. Himi এক গ্রন্থে বলেন, "His tenure of office lasts during the good will of his constituency (শেষ দিন নির্বাচকমণ্ডলীর শুভেচ্ছা অর্জন করতে পারতেন, ততদিন উক্ত পদে বহাল থাকতেন।)
৫. গোত্র কলহ :গোত্রভুক্ত থাকার কারণে আরবদের মাঝে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের জন্ম নিয়েছিল। এর ফলে আত্মসম্মানে আহত সদস্য ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বিসর্জন দিতো না। ফলে গোত্রভুক্ত সদস্যদের মধ্যে কলহ লেগে যেত। শেখ এ কলহের মীমাংসা করতেন, যদিও তার ফৌজদারি ক্ষমতা ছিল সীমিত।
৬.) অন্তঃগোত্রীয় দ্বন্দ্ব : গোত্রগুলো পরস্পর মিত্রতা সূত্রে আবদ্ধ থাকলেও প্রায়ই কলহে লিপ্ত থাকত। এ কলহের কারণ ছিল তৃণভূমি ও জলাশয়ের অধিকার। তাছাড়া আরবগণ আজ স্বাধীনতা প্রিয়। প্রাণ অপেক্ষা স্বাধীনতাকে তারা শ্রেয় মনে করতো। এই স্বাধীনতা কোন গোত্র কর্তৃক সামান্য ক্ষুণ্ণ হলেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সূত্রপাত হতো। জন্মগত বিরোধ বেদুইন জীবনের একটি শক্তিশালী ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়।
৭) রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ : অতি সামান্য কারণে আরবে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ত। প্রথমে অল্প কিছু মানুষ পারস্পরিক দ্বন্দ্ব- সংঘর্ষে লিপ্ত হতো। এরপর অল্প কয়েকজনের সংঘর্ষ সকলের সংঘর্ষে পরিণত হতো। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় কোন নিরপেক্ষ দলের হস্তক্ষেপ ছাড়া শান্তি ফিরে আসত না। আওস ও খাজরাজ গোত্রের লড়াই ৫ম শতাব্দীর শেষ দিকে বনু বকর ও বনু তাগলিবের মধ্যে বাসুসের যুদ্ধ, দাহিস ও আল-গারার যুদ্ধ ইত্যাদি ছিল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোর অন্যতম।
৮) মালা: মক্কাকে কেন্দ্র করে একটি নিয়মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠে। মক্কা নগর একদল বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি কর্তৃক শাসিত হতো। এই ব্যবস্থাপক সভাকে বলা হতো মালা। যে গৃহে 'মালা'র বৈঠক বসত, তাকে দারুণ নাদওয়া বলা হতো। কার্যনির্বাহি ক্ষমতা সীমিত হলেও কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতো।
যেমন- তীর্থযাত্রীদের রসদ সরবরাহ করা, পানি সরবরাহ করা, সৌর ও চন্দ্রে বছরের মধ্যে পত্রিকার সামজ্ঞস্য বিধান করা। পার্শ্ববর্তী রাজন্যবর্গের সাথে মক্কার শাসক শ্রেণীর বয়োজ্যেষ্ঠদের পত্র বিনিময় ও নিরাপদে তাঁদের বাণিজ্য কাফেলাকে অতিক্রম করে দেওয়ার চুক্তি (ইলাফ বা ইসাম) হতো। এছাড়া বিভিন্ন গোত্র মাঝে মাঝে সন্ধি সূত্রেও আবদ্ধ হতো। এটা ছিল উপজাতীয় সাধারণ তন্ত্র (Tribal commonwealth)
৯. শাস্তি বা বিধিবিধান : অপরাধের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা ছিল। জীবনের বদলে জীবন, অঙ্গের বদলে অঙ্গ ইত্যাদি আরবদের স্বীকৃত আইন ছিল। হত্যাকারীকে নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশদের নিকট সমর্পণ করা হতো। মৃতের ওয়ারিশগণ ক্ষমা, মুক্তিপণ (Blood money) বা হত্যা করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হতো। হত্যাকারী গোত্র ত্যাগ করে পালিয়ে গেলে তাকে সমাজচ্যুত বা আল-খারিজ (Outlaw) ঘোষণা করা হতো। সমাজচ্যুত ব্যক্তি নিতান্তই অসহায় ছিল। কারণ তাঁর জীবনের নিরাপত্তা দেওয়ার কেউ ছিল না বরং সমাজে সে দস্যু নামে অভিহিত হতো।
জাহেলিয়া যুগে সামাজিক অবস্থা - Social Condition
প্রাক ইসলামি যুগে আরবের সামাজিক অবস্থা অত্যন্ত করুণ ছিল। সেখানে শ্রেণী বৈষম্য, নিষ্ঠুরতা, অমানবিকতা ও অসততা বিদ্যমান ছিল।
১. শ্রেণীবিভাগ : তৎকালীন সমাজে দু'শ্রেণীর লোক বাস করতো। যথা : যাযাবর বেদুইন ও স্থায়ী বাসিন্দা। মক্কা, মদিনা, তায়েফ ইত্যাদি স্থানে স্থায়ী বসতি গড়ে উঠে। যাযাবরদের একটা অংশ ধীরে ধীরে শহুরে হয়ে উঠে। উভয় শ্রেণীর জীবনযাত্রার মান, সামাজিক মর্যাদা আলাদা ছিল। সামাজিক শৃঙ্খলার ধরন মরুবাসী বেদুইন ও শহুরেদের জন্য আলাদা ছিল। পরবর্তীতে আধা শহুরে আধা যাযাবর শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে।
২. কৌলিন্য প্রথা : আরবেরা তাদের বংশধারা চল্লিশ পুরুষ পর্যন্ত মুখস্থ বলতে পারত। তাদের বিশাল বংশধারার ইতিহাস তাদের কাছে অতিমাত্রায় প্রিয় ছিল। এজন্য তাদের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ প্রবল হয়ে উঠে। এক বংশের লোকজন অন্য বংশের লোকজনদের হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করতো। হিমারীয় মুদারীয়, উমাইয়া-আব্বাসীয়, পরবর্তীতে ফাতেমীয় ইত্যাদি বংশধারা ইসলামি যুগেও সামাজিক বিভেদ তৈরি করে। তারা বংশধারার উগ্র সমর্থক ছিল।
৩. নারীর মর্যাদা : তৎকালীন সমাজে নারীর অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। পুরুষের তুলনায় তাদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হতো।
ক. সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত নারী : কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া বাবা, স্বামী বা সন্তানের সংসারে নারীর সম্পত্তির অধিকার ছিল না। সার্বিক বিবেচনায় নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা হতে বঞ্চিত ছিল।
খ. বিবাহে নারী : বিবাহ নামক এই পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে মেয়েরা সবচাইতে অবহেলিত, নিগৃহীত ও অধিকার বঞ্চিত ছিল। বিবাহে নারীদের সম অধিকার ছিল না। পুরুষ ইচ্ছেমতো স্ত্রী গ্রহণ বা বর্জন করতো। পুরুষেরা অনেক সময় বিবাহ বহির্ভূতভাবে নারীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক রাখত। অন্যদিকে, স্বামীও তার স্ত্রীকে পর পুরুষের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াতে প্রচ্ছন্ন উৎসাহ বা সমর্থন দিত। এককথায় আধুনিক সমাজের বিবাহের পবিত্রতা ছিল না।
গ. কন্যাসন্তান হত্যা : চরম দারিদ্র্যের ভয়ে কোন কোন গোত্রে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। আবার কোন কোন দুর্বল গোত্রে সবল গোত্রের নিকট পরাজিত হওয়ার আশংকায় কন্যার ভবিষ্যৎ পরিণাম ভেবে হত্যা করা হতো। মানসম্মত নারীর সামাজিক অবস্থান না থাকায় অনেক গোত্রে কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করা অপমানজনক মনে করতো। এ থেকে রেহাই পেতে কন্যাকে হত্যা করা হতো। এখানে সকল ঐতিহাসিক একমত যে, জীবন্ত কন্যাসন্তানকে হত্যা করা হতো। এ থেকেই বুঝা যায়, তৎকালীন আরব সমাজে নারীর অবস্থান।
ঘ. ব্যতিক্রম : তৎকালীন কলুষিত সমাজেও পরম নিষ্ঠা ও আন্তরিকতায় কিছু কিছু নারী গড্ডালিকা প্রবাহ থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। আবু জেহেলের মা, বিবি খাদিজা তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাছাড়া অনেক নারী যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দিতে কবিতা রচনা করতো।
৪. দাস-দাসীর অবস্থা। স্বাধীন নারীর সামাজিক মর্যাদা যেখানে ভূলণ্ঠিত, সেখানে পরাধীন দাস-দাসীর অবস্থা যে আরো শোচনীয় হবে, সেটা ধরে নেওয়াই যুক্তিসঙ্গত। তৎকালীন আরবে দু'প্রকার দাসের কথা শোনা যেত।
ক. অনারব দাস- আবিসিনিয়া বা অনারব অঞ্চল হতে ক্রয় করা হতো।
খ. আরব দাস- বিভিন্ন যুদ্ধে পরাজিত নর-নারীকে দাস দাসীতে পরিণত করা হতো। দাস-দাসীদের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় এককথায় মৌলিক কোন অধিকার তারা শতভাগ ভোগ করতে পারত না। প্রভু বা মালিকের ইচ্ছা অনিচ্ছা, মানবিকতা ইত্যাদি ছিল দাস-দাসীদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। অনেকে দাসীকে উপপত্নী হিসেবে গ্রহণ করতো।
৫. অন্যান্য গর্হিত কাজ। জুয়া খেলা, মদ পান করা, নারী অপহরণ করা ইত্যাদি তৎকালীন সমাজে নিন্দিত ছিল না। জুয়া খেলার নেশায় আরব বেদুইনরা সময় সময় নিজ স্ত্রী সন্তানদের বাজি হিসেবে ধরতো। লুণ্ঠন, মদ্যপান এবং দাঙ্গাহাঙ্গামায় যারা অধিক পারদর্শিতা দেখাতে পারতো, সমাজ তাদের বীর খেতাব দিয়ে সম্মান জানাতো।
৬. সুদ প্রথা : তৎকালীন আরবে সুদ প্রথা বিদ্যমান ছিল। সুদ চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পেতো। ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার স্ত্রী সন্তানকে মহাজন দাস বানাতো। আবার অনেকে জোর করে দাস-দাসী বানিয়ে বিক্রি করে সুদের টাকা মাশুল করতো।
৭. দত্তক প্রথা : প্রাক ইসলামি যুগে দত্তক প্রথা বিদ্যমান ছিল। গোত্রের কোন এক সদস্যের খাবার ভাগ করে খেয়ে কিংবা কয়েক ফোঁটা রক্তপান করে গোত্র বহির্ভূত কোন ব্যক্তি গোত্রের সদস্য হতে পারত। কোন দাস স্বাধীন হয়ে প্রাক্তন মনিবের গোত্রের সঙ্গে একীভূত হতে পারত। কোন আগন্তুক কোন গোত্রের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করলে, সে মাওলা হিসেবে সামাজিক মর্যাদা পেত। আবার কোন আগন্তুক মসজিদের খেদমত করে আল্লাহর অনুচরে পরিণত হওয়ার সুযোগ পেত।
৮. আরবদের নৈতিক গুণাবলি : আরবদের নৈতিক গুণাবলির বর্ণনা ব্যতীত তৎকালীন আরবের সামাজিক অবস্থার পূর্ণ মসীচিত্র অসম্পূর্ণ । আরবদের ন্যায় অতিথিপরায়ণ জাতি পৃথিবীতে দুর্লভ। পরম শত্রু ও আতিথ্য গ্রহণ করলে পরম আদর যত্ন পেত। আরবদের ওফাদারী (Fidelety) বিশ্ব বিশ্রুত। সন্ধিবদ্ধ গোত্র বা আশ্রিত জীবন রক্ষার্থে তারা সবকিছু ধ্বংস করতে কুণ্ঠিত হতো না। এছাড়া আরবরা ছিল সাহসী জাতি এবং মহত্ত্ব প্রদর্শনে অদ্বিতীয়।
আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে ধর্মীয় অবস্থা - Religious
প্রাক ইসলামি যুগে আরবদের ধর্মীয় অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। P. K. Hitti, তাঁর 'History of the Arabs গ্রন্থে বলেন, "Judged by his poetry the pagan Bedouin of the Jahiliyah age had little if any religion. অর্থাৎ, (তাদের কবিতা বিচার করে বলা যায় যে, জাহেলিয়া যুগের বেদুইন উপজাতির ধর্ম বলে প্রায় কিছুই ছিল না।) ধর্মীয় আচার-আচরণের যেটুকু অবশিষ্ট ছিল তা হলো প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতি তাদের রক্ষণশীল মনের শ্রদ্ধা। তাদের ধর্মবিশ্বাস ছিল মূলত সর্বপ্রাণবাদমূলক।
বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী ঐতিহাসিক তাবারী, ইবনে খলদুন, ইবনে আছীর, ইবনে আসাবকর এবং হাদিসই সিয়াহ সাত্তাহ হতে জানা যায় ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবে প্রধানত ৫টি ধর্মমত প্রচলিত ছিল। যথা- ১. জড়বাদী, ২. পৌত্তলিক, ৩, ইহুদি, ৪. খ্রিস্টান ও ৫. হানাফিয়া।
১. জড়বাদী : বেদুইনদের ধর্মবিশ্বাস ছিল আদিম প্রকৃতির। ঐতিহাসিক Wellhausen বলেন, "The religious of the Arabs as well as their political life was on a throughly primitive level." অর্থাৎ, (আরবদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জীবন আদিম অবস্থায় ছিল।) অন্যান্য আদিম জনগোষ্ঠীর মতো তারা জড় উপাসক ছিল।
তারা মনে করতো, চাষযোগ্য জমির উর্বরতার জন্য যে দেবতার ভূমিকা ছিল, সেটা উপকারী দেবতা এবং অনুর্বর জমির জন্য দায়ী দৈবশক্তি ছিল অপদেবতা বা শয়তান। এ বিশ্বাসের সূত্র ধরে গাছ, কূপ, গুহা, পাথর এমনকি যে কোন উপকারী বস্তু পূজনীয় হয়ে উঠত।
২. পৌত্তলিকতা : তৎকালীন আরবেরা বহু দেব-দেবীতে বিশ্বাসী ছিল। প্রত্যেক গোত্রের নিজ নিজ এবং প্রত্যেক নগরীতে আলাদা দেব-দেবী ছিল। হেজাজ ও নজদ ছিল পৌত্তলিকতার প্রধান কেন্দ্র। উজজা নামক দেবীকে কুরাইশগণ খুব ভক্তি করতো। তার উপাসনার জায়গায় তিনটি গাছ ছিল এবং এখানে মানুষকে বিশেষ আরাধনার অঙ্গ হিসেবে বলি দেওয়া হতো।
মানাহ ছিল ভাগ্যের দেবী। মক্কা ও মদিনার রাস্তার মাঝামাঝি কুবেদ নামক স্থানে এর মন্দির ছিল। এই মন্দিরে একটি কৃষ্ণ পাথর ছিল। মদিনার আউস ও খাজরাজ গোত্রের লোকজন এ দেবীকে বেশি শ্রদ্ধা করতো। তায়িফের নিকটবর্তী কোন এক স্থানে লাভ অধিষ্ঠিত ছিল। মক্কা ও অন্যান্য অঞ্চলের লোকজন তাঁর ভক্তি করতো। আদিম পরিবারগুলো মাতৃকেন্দ্রিক হওয়ায় আরাধনার পাত্র হিসেবে দেবীরা বেশি গুরুত্ব পেত।
কাবাগৃহে এসব দেবতা ছাড়াও ৩৬০টি মূর্তি বা দেব-দেবী ছিল। সেগুলোর মধ্যে হোবল, ওয়ার, যাওয়া, ইয়াগুস, ইয়াযুক, নসর, লাভ ভবিষ্যৎ গণনার জন্য এর আশেপাশে তাঁর আসক নামক দেবতা সাফা পাহাড়ে এবং নামিলা নামক দেবতা মারওয়া পাহাড়ে প্রতিষ্ঠিত ছিল। দক্ষিণ আরবের স্বাধীন রাজ্যগুলোতে সূর্য ও চন্দ্র দেবতার পূজা প্রচলিত ছিল ।
৩. ইহুদিধর্ম : ইহুদিদের ধর্মীয় ও নৈতিক অধঃপতন ছিল অত্যন্ত মারাত্মক। তাদের পরিত্রাণের জন্য হযরত মুসা, হযরত দাউদ ও হযরত সোলায়মান (আ) আল্লাহর একত্ববাদ প্রচার করেন। তাদের পথ নির্দেশনার জন্য তাদের উপর তাওরাত ও যাবুর ধর্মগ্রন্থদ্বয় অবতীর্ণ হয় কিন্তু তারা হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়নি। হিমিয়ার বনি হারেছ, ইবনে কা'ব, বনি কেনানা ও কেন্দা গোত্রসমূহ ইহুদি ধর্মাবলম্বী ছিল। এছাড়া খাইবার ও মদিনার কুরাইজা ও নাজির গোত্র ইহুদি ছিল।
৪. খ্রিস্টধর্ম : হযরত ঈসা (আ) (পাশ্চাত্য মতে যিশুখ্রিস্ট) এর অনুসারীদের খ্রিস্টান বলা হয়। যিশুখ্রিস্টের একেশ্বরবাদ পাদ্রি ও পুরোহিতদের হাতে বিকৃত হয়ে ত্রিত্ববাদে পরিণত হয়। তৎকালীন আরবের রবীয়া ও পাচ্ছান গোত্রঘর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ছিল। 'কাজা' গোত্রেও এই ধর্মের প্রভাব দেখা যায়।
৫. হানাফিয়াঃ ধর্মীয় কুসংস্কার ও অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগেও আরবে একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী (আস্তিক) ছিল। আস্তিকেরা আল্লাহকে সত্য জেনে তাঁর অস্তিত্বকে বিশ্বাস করতো। হযরত মুহাম্মাদ (স) এর জাতিভাই উমাইয়া বিন আবিসালাত এবং বিবি খাদিজা ও তার চাচাত ভাই ওরাকাবিন নৌফেল প্রমুখ ব্যক্তি একেশ্বরবাদ তথা হানাফিয়া ছিল। সাবেয়ীগণ বিশ্বাস করতো যে, তারা হযরত ঈসা (আ) ও হংতে ইদ্রিস (আ) এর অনুসারী।
আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে আরবের অর্থনৈতিক অবস্থা- Economical
মরুময় আরবের সমাজে যাযাবর ও শহুরে আরব এ দু'শ্রেণীতে নাগরিকেরা বিভক্ত ছিল। ফলে উভয়ের অর্থনৈতিক অবস্থাও ছিল আলাদা।
১. রিক্ত যাযাবর : যাযাবরদের মধ্যে এক শ্রেণী ছিল যারা ভাসমান অবস্থায় কালাতিপাত করতো। তাদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ছিল না। পশুপালন ও দুঠতরাজ ছিল তাদের আয়ের অন্যতম উৎস। বিভিন্ন গ্রন্থের আলোকে বলা যায়, তাদের জীবনযাত্রা ছিল ঠিক আমাদের দেশের ভাসমান বেদেদের মত।
২. একটু সচ্ছল যাযাবর এই প্রকারের যাযাবরেরা ছিল আধা যাযাবর ও আধা শহরে। যাদের নিজস্ব বসতভিটা ছিল। পশুপালন ছাড়াও তাদের অন্য আয়ের উৎস ছিল। বছরের অবসরকালীন সময়ে তারা উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় যাযাবর জীবন পরিচালনা করতো।
৩. শহরবাসী আৱৰ : শহরবাসী আরবেরা যাযাবরদের তুলনায় সচ্ছল ছিল। তারা হাজরানাউত, ইয়েমেন ও ওমান, নিয়ে গঠিত দক্ষিণ আরবের উর্বর অঞ্চলগুলোতে আবাসভূমি গড়ে তুলেছিল। এছাড়া মক্কা, মদিনা ও তায়েফে জনবসতি ছিল। তাদের প্রধান উৎপাদিত ফসল ছিল খেজুর। এর কাঠ জ্বালানি, ছালা, মাদুর ছাদের উপকরণ, বিক্রি বিশেষ প্রক্রিয়ায় উটের খাবার ইত্যাদি নানা কাজে ব্যবহৃত হতো।
৪. ব্যবসায় বাণিজ্য মরুময় আরবে শিল্প-কলকারখানার প্রসার না ঘটলেও সাচ্ছল আরবেরা ব্যবসায়-বাণিজ্য করে জীবিকানির্বাহ করতো। হযরত আবু বকর, হযরত উসমান সহ বহু ব্যক্তি ব্যবসায়-বাণিজ্য করতো। মক্কার বণিকেরা এশিয়ার সঙ্গে ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর পূর্ব আফ্রিকার স্থল বাণিজ্য পরিচালনা করতো। মদিনা শহর ইয়েমেন হতে বাণিজ্য পথের সাথে সংযুক্ত।
৫.সুদখোর: তৎকালীন আরবে সুদের ভিত্তিতে টাকা খাটানোর প্রচলন ছিল। মক্কা, মদিনা, তায়েফসহ সর্বত্র বিশেষ করে ইহুদি পল্লিতে সুদের ব্যবসায় ছিল রমরমা। চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বাড়ত। ঋণগ্রহীতা অনেক সময় সর্বস্ব হারাত। অনেক সময় ঋণগ্রহীতার স্ত্রী পরিবার পরিজনকে বিক্রি করে সুদের মাতল করতো। মক্কায় ব্যাংক স্থাপিত ছিল। ফলে দাদন ব্যবসায় দ্রুত প্রসার লাভ করে।
৬. কারিগর সম্প্রদায় : মূর্তি পূজা চালু থাকায় মূর্তির কারিগর সম্প্রদায় গড়ে উঠে। তাদের তৈরিকৃত দেব-দেবীর সাথে ধর্মীয় আবেগ জড়িত থাকার কারণে কারিগরেরা সমাজে বিশেষ মর্যাদা পেত। সারা বছর মূর্তি তৈরি ও কেনাবেচা হওয়ার কারণে তাদের আর্থিক সচ্ছলতা ছিল।
আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে আরবের সাংস্কৃতিক অবস্থা - Cultural চন্দিতিওন
সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক জীবনধারা উন্নতমানের না হলেও আরবগণ সংস্কৃতিমনা ছিল। P. K. Hitti বলেন- "The Bedouin's Love of poetry was his one cultureal asset" " অর্থাৎ, কবিতার প্রতি বেদুইনদের ভালোবাসা ছিল তাদের অন্যতম সাংস্কৃতিক সম্পদ।
১. সাহিত্য চর্চা : জাহেলিয়া যুগে আরবে লেখার কোন কৌশল চূড়ান্ত উন্নতি লাভ করে নি, সেহেতু গদ্য সাহিত্যের তেমন প্রসার ঘটে নি। ইসলাম পূর্ব দিনগুলোর দৈববাণী লিপিবদ্ধ রয়েছে। কাব্যরীতির উন্নয়নের প্রথম স্তরে ছিল দৈবপুরুষ ও গণৎকারদের ছন্দ মিল যুক্ত গদ্য। উটের আরোহীর গানও আরবি সাহিত্যের গদ্য হিসেবে বিবেচিত হতো।
আরবদের সাহিত্য চর্চার ভূয়সী প্রশংসা করে P. K. Hitti একই গ্রন্থে বলেন, "No people in the world, perhaps, manifest such enthusiastic admiration for literary expression and are so moved by the word, spoken or written as the Arabs." অর্থাৎ, আরবীয়দের মতো বিশ্বের আর কোন জাতির মানুষই বোধ হয় সাহিত্যশৈলীর জন্য এত উৎসাহ ও শ্রদ্ধার প্রকাশ ঘটায়নি এবং লেখ্য ভাষার দ্বারা এভাবে প্রভাবিত হয় নি ।
২. কাব্য : কাব্য দিয়েই আরবীয়দের সাহিত্যচর্চার সূচনা। বিভিন্ন যুদ্ধবিগ্রহকে কেন্দ্র করে কাব্যগুলো রচিত হয়েছিল। প্রথম যুগের কবিতাগুলো মুখস্থ করে রাখা হতো। পরবর্তী হিজরি সনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতকে কবিতাগুলো লিখিত আকারে প্রকাশ পেয়েছে।"
৩. গীতিকবিতা : গীতিকবিতা রচনায় আরবীয়রা চরম উৎকর্ষতা লাভ করে। গীতিকবিতার বিষয়বস্তুতে মৌলিক চিন্তা কিংবা সর্বজনীন আবেদন ফুটে উঠত না। কবিতার নৈর্ব্যত্তিক আবেদনের চাইতে কবিই পাঠকের আগে সামনে আসে। বিভিন্ন ছোট-বড় যুদ্ধের ঘটনা, বংশ গৌরব, বীরত্বপূর্ণ কাহিনী, যুদ্ধের বিবরণ, উটের ভূয়সী প্রশংসা, প্রেম, যৌন আবেদন ইত্যাদি তৎকালীন গীতিকবিতার বিষয়বস্তু ছিল।
কিনদা ও তাগলিব গোত্রের মধ্যে গীতিকবিতার চর্চা বেশি হতো। দক্ষিণ আরবের অন্তর্ভুক্ত কাহতানি গোত্রের ইমরুল কায়েস (মৃঃ আনুমানিক ৫৪০ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন কিনদা সম্প্রদায়ভুক্ত। তাগলিব গোত্রের অন্যতম গীতিকবি ছিলেন আমর ইবন কুলসুম (মৃত্যু আনুমানিক ৬০০ খ্রিস্টাব্দ)। তৎকালীন আরবে গীতিকবিতাই অধিক সমৃদ্ধ ছিল ।
৪. প্রবাদ বাক্য : আরবীয়দের প্রবাদ বাক্য বা প্রবচনের জুড়ি মেলা ভার। আরবীয়দের বিভিন্ন প্রবাদ বা প্রবন্ধ আজও মানুষের চিন্তা-চেতনাকে আলোড়িত করে। মহাজ্ঞানী লোকমান (আল হাকিম) ছিলেন আবিসিনীয় কিংবা হিব্রু তিনি বহু প্রবাদ বাক্য রচনা করেছেন। এছাড়া প্রবাদ বাক্যের রচয়িতাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আখতার ইবন সাইফি, হাজির ইবন জুরারা, আল-খাসের কন্যা হিন্দ প্রমুখ।
একটি বিখ্যাত আরবীয় প্রচলন হলো মানুষের সৌন্দর্য নিহিত আছে। তার বাগ্মিতার মধ্যে অপর একটি বিখ্যাত আরবীয় প্রবচন হলো- জ্ঞানের সাহায্যে তিনটি আলোকিত হয়েছে ফ্রাঙ্কদের চিন্তার ক্ষমতা, চীনাদের হাতের নৈপুণ্য ও আরবীয়দের বাগ্মিতা।
৫. উকাজ মেলা ও মুয়াল্লাকাত : জুলকাদ, জুলহাজ্ব, মহররম ও রজব মাসগুলো পবিত্র হিসেবে যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ ছিল এই সময়ে উকাজ মেলা বসত। মেলায় দেশীয় পণ্য, বাসনপত্র, ব্যবসায় বাণিজ্য ও অন্যান্য পণ্যের কেনাবেচা হতো। নাচগান, মদ্যপান ইত্যাদির আসর বসত। আরবের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিচারক হিসেবে নিযুক্ত থাকতেন বিখ্যাত বিখ্যাত কবিগণ স্বরচিত কবিতা আবৃতি করতেন। বছরের সেরা ৭টি কবিতা মিশরের নিলেন কাপড়ে স্বর্ণাক্ষরে লিখে কাবা গৃহের দেয়ালে লাগিয়ে দেওয়া হতো। সাতটি কবিতার সমষ্টি “সাবয়া মুয়াল্লাকাত” বা (Seven suspended poems) নামে অভিহিত।
পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার ডামাডোলে পেটে ক্ষুধা নিয়ে আরবীয়রা যে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা করেছেন এবং কাব্য প্রীতি দেখিয়েছেন তা বিশ্বের ইতিহাসে নজীরবিহীন।
Rate This Article
Thanks for reading: জাহেলিয়া যুগে আরবের অবস্থা - Condition of Arab at the age of Jahiliyah, Stay tune to get latest Blogging Tips.
