হযরত মুহাম্মাদ (স) মক্কা জীবন ও হিজরত- Hazrat Muhammad at Makkha and his Hijrat

মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী,হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী,হিজরত,বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ এর জীবনী ও মেরাজের ঘটনা,মুহাম্মাদ (সঃ) এর জীবনী,মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সারা

 

সূরা কুরাইশ,সুরা কুরাইশ,সূরা কুরাইশ বাংলা উচ্চারণ,সূরা কুরাইশ এর ফজিলত,সূরা কুরাইশ এর তাফসীর,সূরা কুরাইশ তেলাওয়াত,সূরা আল কুরাইশ,সূরা কুরাইশ বাংলা উচ্চারণ সহ,কুরাইশ,সূরা কুরাইশ তাফসির,সূরা কুরাইশ উচ্চারণ,সূরা কুরাইশ শানে নুযুল,সূরা কুরাই,সূরা কুরাইশ অর্থ,সূরা আলকুরাইশ,সূরা কুরাইশ বাংলা,আল কুরাইশ বানান সহ,সূরা কুরাইশ মশ্‌ক,সুরা কোরাইশ,সুরা কোরাইশী,সূরা আল কুরাইশ শিক্ষা,সূরা কুরাইশ ফুল ভিডিও,সূরা কুরাইশ বাংলা লেখা,সহজে সূরা কুরাইশ শিখবো,হজরত মুহাম্মাদ এর জীবন ও হিজরতকুরা
DailyExercise 

হযরত মুহাম্মাদ (স) মক্কা জীবন ও হিজরত Hazrat Muhammad at Makkha and his Hijrat

বিশ্বনবী (স) এর বংশ পরিচয়ঃ হযরত মুহাম্মাদ (স) নবী ও রাসূল, সারওয়ারেকায়নাত, মুহম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্দুল মুত্তালিব ইব্‌ন হাশিম। হযরত মুহাম্মাদ (স) ইতিহাস প্রসিদ্ধ হযরত ইব্রাহিম (আ) এর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ) এর বংশধর ছিলেন। হযরত ইসমাইল (আ) এর বংশধরেরা বহুকাল পূর্বে মক্কায় বসতি স্থাপন করে। হযরত মুহাম্মাদ (স) এর বংশপরম্পরা ঊর্ধ্বদিকে প্রায় ৬০ পুরুষ পর্যন্ত পৌঁছে হযরত ইব্রাহিম (আ) এর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ) এর সাথে মিলিত হয়েছে।

কুরাইশ নামের উৎপত্তি - Source of Quraish :

হযরত ইসমাইল (আ) এর বংশধর আদনান এবং তাঁর পুত্র মা'আদের পুত্র ছিল ফিহর। তিনি সমাজে প্রভাব প্রতিপত্তিশালী এবং নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর উপনাম ছিল কুরাইশ। কুরাইশ শব্দের অর্থ 'সওদাগর'। এ মহান ব্যক্তির নামানুসারে পরবর্তী বংশধরদের নামকরণ হয় কুরাইশ। তিনি খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে বেঁচে ছিলেন।

কুরাইশ - Quraish 

খ্রিস্টীয় ৫ম শতাব্দীতে এ বংশে একজন প্রভাব প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তির আবির্ভাব হয়। তাঁর নাম হলো কুশাইর। তিনি বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন গোত্র-উপগোত্রগুলোকে একত্রিত করে সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেন এবং নেতৃত্ব লাভ করেন। তিনি সেই আমলের ধর্মীয় ও পার্থিব শাসক ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত দক্ষতায় কুরাইশ বংশ সামরিক প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং শ্রেষ্ঠ বংশে পরিণত হয়। তিনি ৪৮০ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

কুশাইরের মৃত্যুর পর মক্কার শাসনভার গ্রহণ করেন তাঁর পুত্র আব্দুদার। আবদুদদার সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করেন কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর মক্কার শাসনতার নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। আবদারের পুত্রগণ এবং তাঁর ছোট ভাই মান্নাফের পুত্রগণ মক্কার শাসনভার গ্রহণ করতে চায়। এ বিধান মেটানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আলাপ-আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, আ মান্নাফের পুত্র আব্দুস শামস-এর উপর মক্কার হজযাত্রীদের পানি সরবরাহ ও খাজনা আদায়ের তার এবং দারুণ मদওয়া (যন্ত্রণাগৃহ) ও কাবার পবিত্র উপাসনালয়ের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব থাকবে। অপর দিকে আদদারের পৌত্রগণ কাবার রক্ষণাবেক্ষণ ও সামরিক কর্তৃত্ব করবে।

হাশিম-উমাইয়া বন্ধ Conflict of Hashim and Umaiya

আব্দুস শামস তীর্থযাত্রীদের পানি সরবরাহ ও কর আদায়ের দায়িত্ব তাঁর ভাই হাশিমের নিকট প্রদান করেন। হাশিম

সমাজে একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিলেন এবং সমাজের সর্বস্তরের ভালোবাসা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। আব্দুস শামসের পুত্র উমাইয়া বাবার এ সিন্ধান্ত মেনে নিতে পারলেন না। তিনি চাচা হাশিমের উপর অর্পিত দায়িত্ব ছিনিয়ে নিতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। এভাবে উমাইয়া তাঁর চাচা হাশিমের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এ স্বল্প পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ লাভ করে। এ সংঘর্ষে উমাইয়া পরাজিত হয়ে সালিশি বৈঠকের বিচারকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দশ বছরের জন্য দেশ হতে নির্বাসিত হন।

হাশিম শায়বা (পরবর্তীতে আব্দুল মুত্তালিব) নামক এক অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান রেখে ৫১০ খ্রিস্টাব্দে মারা যান। শায়বার মাথার চুল সাদা ছিল। এজন্য তার নাম হয় শায়বা (বুদ্ধ) হাশিমের ভাই মুত্তালিবের উপর মক্কার কর্তৃত্ব অর্পিত হয়।

আঃ মুত্তালিবের পরিচয়

মুত্তালিব একজন ন্যায়বান শাসক ছিলেন। তিনি তাঁর দায়িত্বসমূহ সুষ্ঠুভাবে পালন করেন। এসময় তিনি তাঁর ভাই হাশিমের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সস্তান শায়বাকে মদিনা হতে মক্কায় নিয়ে আসেন। শায়বা ৭ বছর মায়ের সাথে মদিনার মামার বাড়িতে ছিল। শারবার চাচা মুত্তালিবের কাছে পিতাহে লালিত-পালিত হন। মক্কাবাসীরা শায়বাকে মুত্তালিবের ভৃত্য মনে করে তাঁকে আব্দুল মুত্তালিব নামে অভিহিত করেন এবং এ নাম পরবর্তীতে প্রসিদ্ধি লাভ করে। ৫২৩ খ্রিস্টাব্দে মুত্তালিব মৃত্যুবরণ করেন। মক্কার শাসনভার আব্দুল মুত্তালিব (শায়বা) এর উপর অর্পিত হয়।

বনি হাশিম ও বনি উমাইয়াদের মধ্যে দ্বন্দ্ব

(আ) মুত্তালিব স্বীয় পূর্বপুরুষদের মতো বহু সদগুণের অধিকারী ছিলেন। তিনি বদান্যতা ও দানশীলতার জন্য গোটা আরবে বিখ্যাত ছিলেন। তাছাড়া তিনি স্বপ্নযোগে একটি প্রাকৃতিক ঝরনার মালিক ছিলেন। এজন্য হাজীদের পানি সরবরাহের দায়িত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
(আ) মুত্তালিবের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা দেখে উমাইয়ার পুত্র 'হারব' যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পিতার ন্যায় দশ বছরের জন্য নির্বাসিত হন। এ যুদ্ধের মাধ্যমেই বনি হাশিম ও বনি উমাইয়াদের মধ্যে শত্রুতা স্থায়িত্ব লাভ করে।

হস্তীর বছর

মক্কার কা'বা গৃহের প্রতি আরববাসীদের ভক্তি ও শ্রদ্ধা থাকায় ইয়েমেনের খ্রিস্টান শাসনকর্তা আব্রাহার মনে খুব হিংসা হয়। তিনি ইয়েমেনের রাজধানী সানায় এক বিরাট গির্জা নির্মাণ করেন এবং মক্কার কাবার পরিবর্তে সানায় সকলকে আগমনের আহ্বান জানান। তাঁর আহ্বান ব্যর্থ হলে তিনি কা'বা গৃহ ধ্বংসের পরিকল্পনা নেন। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে ৬০ হাজার সৈন্য ও ১২টি হাতি নিয়ে কা'বা আক্রমণ করেন। আল্লাহর সাহায্যে কা'বা গৃহ রক্ষা পায়। হাজার হাজার পাখির প্রস্তর খণ্ড নিক্ষেপের ফলে আব্রাহা সদলবলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। পবিত্র কুরআন শরীফের সূরা ফিলে এ যুদ্ধের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনের খ্রিস্টান শাসক আব্রাহা একটি হাতিতে আরোহণ করে এ অভিযান পরিচালনা করেছিলেন বলে আরববাসী বছরকে হস্তীর বছর অথবা Year of Elephant বলে।

আব্দুল মুত্তালিব

হযরত মুহাম্মাদ (স) এর ছয়জন দাদী ছিল। তাঁর বাবার এগারজন, ইবন সাদ এর ভাষ্যানুযায়ী ১২ (বার) জন পুত্র এবং ছয় বোন ছিল। তাঁদের নাম (১) হযরত মুহাম্মাদ (স) এর দাদী ফাতিমা বিনত আমর ইবন আইয ইবন ইমরান ইবন মাখযুম এর গর্ভে আব্দুল্লাহ, মুবায়র, আৰু তালিব (আবদ মানাফ), আব্দুল কা'বা, উম্মু হাকীম আল বায়দা, আতিকা, বাররা, উমায়মা, আরওয়া, (২) বানু আমির ইবন সাসাআর এর গর্ভে আল হারিস, (৩) হালা বিনতে উপায়ব এর গর্ভে হযরত হামযা (রা), হযরত সাফিয়া (রা), আল মুকাওয়াম, হাজল (৪) ফুতায়লা বিন্ত জানাব এর গর্ভে হযরত আব্বাস (রা), নিরার, কুছাম, (৫) লুবনা বিনত আল হাজির এর গর্ভে আহাব (৬) মুমাল্লাআ বিনত আমর এর গর্ভে- গাবদাফ (মুযাব)।

আব্দুল্লাহ

হযরত মুহাম্মাদ (স) এর পিতা আব্দুল্লাহ এবং তাঁর ফুফু উম্মু হাকীম আল বায়দা জমজ জন্মগ্রহণ করেন। আব্দুল্লাহ তাঁর পিতার অত্যন্ত প্রিয় পুত্র ছিলেন। পঁচিশ বছর (কেউ কেউ পঁচিশ অথবা কিছু কমবেশি লিখেছেন) বয়সে আব্দুল মুত্তালিব বানু যাহরার নেক ও চরিত্রবতী মহিলা বিবি আমিনা বিনত ওয়াহাব ইবন আব্দুদ মানাফ এর সঙ্গে আব্দুল্লাহর বিবাহ দেন।
হযরত মুহাম্মাদ (স) এর দাদীর নাম ছিল ফাতিমা বিনত আমর এবং নানীর নাম ছিল বাররা বিনত আব্দুল উয্যা। আরবের প্রথানুযায়ী আব্দুল্লাহ তিনদিন শ্বশুরালয় থেকে গ্রীকে সঙ্গে নিয়ে স্বগৃহে ফিরে আসেন। বিবাহের কিছুদিন পরে আব্দুল্লাহ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে একটি কুরাইশ কাফেলার সাথে সিরিয়া গমন করেন এবং ফেরার পথে মদিনায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। (আ) মুত্তালিবের আত্মীয় (মাতুলালয়) বানু আদিয়ি ইবনুন নাজ্জার এর নিকট আব্দুল্লাহকে রাখা হয় এবং মক্কায় সংবাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। (আ) মুত্তালিব বড় পুত্র হারিসকে মদিনায় প্রেরণ করেন। কিন্তু ইতিমধ্যে আব্দুল্লাহ মারা যায় এবং দারুন নাবিগায় দাফন করা হয়। ৫টি উট, কয়েকটি ছাগল ও ভেড়া এবং উম্মে আমিনা নানি এক দাসী রেখে আব্দুল্লাহ ২৫ বছর বয়সে মারা যান। সে সময় বিবি আমিনা সন্তানসম্ভবা ছিলেন।


Rate This Article

Thanks for reading: হযরত মুহাম্মাদ (স) মক্কা জীবন ও হিজরত- Hazrat Muhammad at Makkha and his Hijrat, Stay tune to get latest Blogging Tips.

Getting Info...

Post a Comment

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.